মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদহার ২৫ বেসিস বা ভিত্তি পয়েন্ট বাড়িয়ে ১ দশমিক ২৫ শতাংশ করেছে, যা ৩১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে ১৯৯৫ সালে সুদহার রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছিল। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও ইয়েনের দুর্বল বিনিময় হারের কারণে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ায় গতকাল এ পদক্ষেপ নিয়েছে ব্যাংকটি। খবর জাপান টুডে।
ব্যাংক অব জাপানের (বিওজে) পরিচালনা পর্ষদের সাত সদস্য সুদহার বাড়ানোর পক্ষে ভোট দেন, বিপক্ষে ছিলেন দুজন। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, মূল্যস্ফীতির মৌলিক হার ২ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছে। একই সময়ে আর্থিক পরিস্থিতিও বেশ সহায়ক অবস্থানে রয়েছে। তাই প্রয়োজনে সুদহার আরো বাড়ানো হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে দাম বেড়েছে জ্বালানি তেলের। এতে জাপানের মতো আমদানিনির্ভর দেশের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। দেশটির জ্বালানি চাহিদার বড় অংশই আমদানি করতে হয়। ফলে তেলের দাম বাড়লে পণ্য ও পরিবহন ব্যয়ও বাড়ে।
ইয়েনের দুর্বল বিনিময় হারও মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়াচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় জাপানের সুদহার দীর্ঘদিন কম থাকায় বিনিয়োগকারীরা বেশি মুনাফার আশায় ডলারে বিনিয়োগ করেছেন। এতে ইয়েনের বিনিময় হার কমে গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, জুলাইয়ে ডলারের বিপরীতে ইয়েনের বিনিময় হার ৪০ বছরে সর্বনিম্নে নেমে যায়। গতকাল সুদহার বাড়ানোর ঘোষণার পরও ডলারের বিপরীতে ইয়েনের দর ১৫৭-এর নিচে নেমে যায়। ঘোষণার আগে প্রতি ডলারের দাম ছিল প্রায় ১৫৬ ইয়েন ৩০ সেন।
সরকারের প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, আগস্টে খাদ্যপণ্য ছাড়া জাপানের মূল মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে ১ দশমিক ৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ছিল ১ দশমিক ৮ শতাংশ।
সরকারের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে সহায়তা মূল্যস্ফীতি কমাতে ভূমিকা রেখেছে। তবে জ্বালানির দাম সাম্প্রতিক সময়ে বাড়ায় এ স্বস্তি বেশি দিন নাও থাকতে পারে।
মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে জাপান সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বড় আকারের প্রণোদনা প্যাকেজ, জ্বালানি কর ছাড় এবং ভোগব্যয় বাড়াতে সহায়তা। এছাড়া ২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে দুই বছরের জন্য খাদ্যপণ্যের ভোগ কর ৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করার সিদ্ধান্তও নেয়া হয়েছে।